বন্ধু নয় এমন দেশের তালিকা প্রকাশ করল রাশিয়া

ইউক্রেন ইস্যুতে বন্ধু নয় এমন দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু পর এসব দেশ এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যা মস্কোর বিরুদ্ধে গেছে।

এসব দেশের প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সঙ্গে যে কোনো চুক্তি করতে এখন থেকে সরকারের অনুমতি লাগবে। এ জন্য একটি কমিশন গঠন করা হবে।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যেসব দেশ ও অঞ্চল ‘অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ’ নিয়েছে তাদের তালিকা সোমবার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

আলবেনিয়া, অ্যান্ডোরা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো, আইসল্যান্ড, কানাডা, লিশটেনস্টাইন, মাইক্রোনেশিয়া, মনাকো, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, সান মারিনো, উত্তর মেসিডোনিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, ইউক্রেন, মন্টেনেগ্রো, সুইজারল্যান্ড ও জাপান রয়েছে তালিকায়। এ ছাড়া ব্রিটিশশাসিত জার্সি দ্বীপপুঞ্জ, অ্যাঙ্গোলা, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, জিব্রালটার অঞ্চলও আছে নিষেধাজ্ঞার আওতায়।

রুশ সরকার জানিয়েছে, এই ডিক্রি অনুযায়ী- যেসব রাশিয়ান নাগরিক এবং প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র ও তার অঞ্চল এবং পৌরসভার সঙ্গে এসব দেশের তালিকায় থাকা বিদেশি ঋণদাতাদের সঙ্গে লেনদেন আছে তারা রুবলে অর্থ প্রদান করতে পারবে। তবে, নতুন অস্থায়ী এই পদ্ধতিটি প্রতি মাসে ১০ মিলিয়ন রুবলের (বা বিদেশি মুদ্রায় একই পরিমাণ) চেয়ে বেশি অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের ১৩ তম দিন চলছে। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশের পর ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়ান সেনারা। এ অভিযানের অংশ হিসেবে স্থল, আকাশ ও জলপথে ইউক্রেনে হামলা চালানো হচ্ছে। অভিযান শুরুর পর ইউক্রেনের সেনাবাহিনীও প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে।

কিয়েভে হামলা করতে যাচ্ছে রাশিয়া, বাসিন্দাদের প্রতি সতর্কতা

কিয়েভ শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক করে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মঙ্গলবার (১ মার্চ) বিকালের দিকে এক বিবৃতিতে রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন, ইউক্রেনের ‘নিরাপত্তা বিভাগের প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং প্রধান সাই-অপ সেন্টার’ টার্গেট করে হামলা চালানো হবে। তাই এসব সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকা থেকে বেসামরিক লোকজনকে দ্রুত সরে যেতে বলা হয়েছে।

রুশ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইউক্রেনের যেসব নাগরিক জাতীয়তাবাদীদের উসকানিতে তৎপর তাদের এবং কিয়েভের অন্য বাসিন্দা যারা এসব স্থাপনার কাছে বসবাস করছেন তাদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করছি।’

রুশ কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রচারণা বন্ধের লক্ষ্যে এই হামলা চালানো হবে। এর আগে ৪০ মাইল দীর্ঘ রাশিয়ার সামরিক বহর রাজধানী কিয়েভের দিকে এগিয়ে আসার তথ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছিল।

রাশিয়া আর ইউক্রেনের মধ্যে সামরিক শক্তির তুলনামূলক পার্থক্য

সামরিক শক্তির বিচারে বিশ্বের ১৪০টি দেশের মধ্যে রাশিয়ার অবস্থান দ্বিতীয় হলেও, ইউক্রেনের অবস্থান সেখানে ২২তম।

দুটো দেশের সৈন্য সংখ্যা, যুদ্ধবিমান, রণতরী বা সামরিক সরঞ্জামেও ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক শক্তি পর্যবেক্ষণকারী গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সৈন্য সংখ্যা আট লাখ ৫০ হাজার, আর ইউক্রেনের সৈন্য সংখ্যা দুই লাখ। তবে উভয় দেশের রিজার্ভ সৈনিক রয়েছে আরও আড়াই লাখ।

রাশিয়া সামরিক খাতে প্রতি বছর ব্যয় করে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, সেখানে ইউক্রেন তার ১৫ ভাগের প্রায় এক ভাগ খরচ করে- এক হাজার একশো ৮৭ কোটি ডলার।

রাশিয়ার আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা আড়াই লাখ, তবে ইউক্রেনের রয়েছে মাত্র ৫০ হাজার।

যুদ্ধবিমান

রাশিয়ার মোট সামরিক আকাশযান রয়েছে ৪ হাজার ১৭৩টি, ইউক্রেনের মাত্র ৩১৮টি।

ইউক্রেনের যুদ্ধবিমান ৬৯টি হলেও রাশিয়ার রয়েছে ৭৭২টি।

শুধুমাত্র আক্রমণকারী বিমান রাশিয়ার রয়েছে ৭৩৯টি, ইউক্রেনের মাত্র ২৯টি।

ইউক্রেনের পরিবহন বিমান মাত্র ৩২টি হলেও রাশিয়ার রয়েছে ৪৪৫টি।

রাশিয়ার মোট হেলিকপ্টার রয়েছে ১,৫৪৩টি, যেখানে অ্যাটাক হেলিকপ্টার ৫৪৪টি। অন্যদিকে ইউক্রেনের হেলিকপ্টার রয়েছে ১১২টি, অ্যাটাক কপ্টার ৩৪টি।

সামরিক সরঞ্জাম

রাশিয়ার ট্যাঙ্ক রয়েছে ১২ হাজার ৪২০টি, ইউক্রেনের ২,৫৯৬টি।

আমর্ড ভেহিকেল রাশিয়ার ৩০,১২২টি, ইউক্রেনের ১২,৩০৩টি।

স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি রাশিয়ার আছে ৬,৫৭৪টি, ইউক্রেনের আছে ১,০৬৭টি।

রাশিয়ার মোবাইল রকেট প্রজেক্টর রয়েছে ৩,৩৯১টি, ইউক্রেনের আছে ৪৯০টি।

সামরিক নৌযান

সামরিক নৌযানের দিক থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে রাশিয়া।

রাশিয়ার নৌ সামরিক যান ৬০৫টি থাকলেও ইউক্রেনের রয়েছে ৩৮টি।

রাশিয়ার একটি বিমানবাহী রণতরী থাকলেও ইউক্রেনের এরকম কোন রণতরী নেই। তেমনি রাশিয়ার ৭০টি সাবমেরিন থাকলেও ইউক্রেনের কোন সাবমেরিন নেই।

ইউক্রেনের কোন ডেস্ট্রয়ার নেই, তবে রাশিয়ার রয়েছে ১৫টি। ইউক্রেনের একটি ফ্রিগেট থাকলেও রাশিয়ার রয়েছে ১১টি। মাইন ওয়ারফেয়ার নৌযান ইউক্রেনের একটা থাকলেও রাশিয়ার রয়েছে ৪৯টি।

রাশিয়ার করভেট রয়েছে ৮৬টি, যেখানে ইউক্রেনের আছে মাত্র একটি।

পেট্রোল ভেসেল রাশিয়ার রয়েছে ৫৯টি, ইউক্রেনের রয়েছে ১৩টি।

অন্যান্য সরঞ্জাম

রাশিয়ার যেখানে ১,২১৮টি বিমান বন্দর রয়েছে, ইউক্রেনের রয়েছে ১৮৭টি। বাণিজ্যিক জাহাজ রাশিয়ার ২,৮৭৩টি থাকলেও ইউক্রেনের আছে ৪০৯টি।

এর বাইরে রাশিয়া পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, কিন্তু ইউক্রেনের এরকম কোন অস্ত্র নেই।

রাশিয়ার এস-৪০০ নামের অত্যন্ত শক্তিশালী মিসাইল সিস্টেম রয়েছে, যা আকাশ প্রতিরক্ষায় খুবই কার্যকর, তবে ইউক্রেনের এরকম কোন ব্যবস্থা নেই।

Design a site like this with WordPress.com
Get started